Sunday, June 21, 2020

৬২★ পৃথিবীর এই রঙ্গমঞ্চে

  • পৃথিবীর এই রঙ্গমঞ্চে
  • পলাশ শিকদার 


সময় বড় অদ্ভুত! নিরন্তর এক মহাপ্রলয়ের দিকে ধাবিত হচ্ছি মনে হয়। চারিদিক নিস্তব্ধ হয়ে আসছে! শঙ্কার মিছিল দীর্ঘতর হচ্ছে। ক্ষণে ক্ষণে মনটা চূড়ান্ত বিষণ্নতায় ভরে যাচ্ছে। চেনা মানুষগুলোর সাথে ইচ্ছে থাকলেও সাক্ষাৎকরতে পারছিনা। ঘরবন্দি আমরা! প্রাণবন্ত প্রকৃতি!

এই পৃথিবী নামক রঙ্গমঞ্চটা কেমন অদ্ভুত, তাই না! যদি এই রঙ্গমঞ্চটা ভেঙে দেওয়া যেতো, তাহলে কি আরো সংঘর্ষ, ভেদাভেদ তৈরি হত? নাকি সমাজ সুখে পরিপূর্ণ হয়ে উঠত? আমার জানা নেই। এই রঙ্গমঞ্চে কতকিছু হচ্ছে, কেউ অস্ত্র গোলাবারুদ আবার কেউবা ধনসম্পদের অহংকার। আরো ককত কী... দুই দিনের এই পৃথিবীতে কী হচ্ছে এসব !

তাহলে কি পৃথিবী এভাবেই চলবে, পানকৌড়ি নৌকার মতো? একবার ডুববে একবার উঠবে। দেখেছি প্রত্যেকটা দুর্বল পশু সবল পশু দ্বারা শিকার হয়। তেমনি শক্তিশালী দেশের মানুষের দ্বারা দুর্বল দেশের মানুষ শোষিত, নির্যাতিত হচ্ছে! তাহলে কি এভাবেই পৃথিবী যতদিন নিশ্বাস নিবে ততদিন অসহায় মানুষগুলো শোষিত নির্যাতিত হবে?

 আজ পৃথিবীতে এলিট শ্রেণীর কেউ দেহত্যাগ করলে পুরো জাতি সেই কথা জানতে পারছে, অন্যদিকে অসহায় মানুষের বলিদানে সেটা বোধহয় লোকচক্ষুর আড়ালে নিমিষেই চলে যাচ্ছে। কী কৌতুহল এই পৃথিবী তাই না? 

আজ এই মায়াবী পৃথিবীর মানবতা কোথায় গিয়ে ঠেকেছে! তাহলে মানুষ কি তার ধর্ম ধারন করছে? আসলে পৃথিবীর এই রঙ্গমঞ্চে, যার আছে ভুরি ভুরি সেই নিচ্ছে কাঙ্গালের ধন চুরি করে। এই রঙ্গমঞ্চের খেলা বোধহয় কোনো দিনও শেষ হবে না, মানুষ যতদিন এই সুন্দর মায়াবী পৃথিবীর বুকে বেঁচে থাকবে ততদিন এই খেলা বোধ হয় টিকে থাকবে। 

এভাবেই হয়তো যুগ যুগ মানুষের প্রণয়, অহংকার, নির্যাতন উপেক্ষা করে বেঁচে থাকতে হবে। 

কল্যাণ হোক মানুষসহ সকল প্রাণীর, বেঁচে থাকুক পৃথিবী!


রচনা:১৭-০৬-২০২০।

Saturday, June 13, 2020

৬১! 'শিবগীতা' কি ?

  • ওঁ তৎ সৎ
এখান থেকে সংক্ষেপে জেনে নিতে পারেন 'শিবগীতা' সম্পর্কে :
                 'শিবগীতা' কি ?
আমরা সকলেই হয়তো শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা সম্পর্কে
জানি কিন্তু শিবগীতা সম্পর্কে ঠিক ততটা
জানি না । তাই আজকে আমরা শিবগীতা
সম্বন্ধে জানানোর চেষ্টা করবো । 

যে প্রকার ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মুখ থেকে শ্রীমদ্ভভগবদ্গীতা প্রকাশিত হয়েছে , অনুরূপ ভাবে ভগবান শিবের মুখারবিন্দ থেকে বের হয়েছে এই "শিবগীতা"।
মহাভারতের ভীষ্ম পর্ব থেকে ভগবদ্গীতা
এসেছে , এবং সেখানে মোট আঠারোটি অধ্যায়
রয়েছে । তাকে কৃষ্ণার্জুন সংবাদ বলে
উল্লিখিত করা হয়েছে । ঠিক তেমনই পদ্মপুরাণে
উল্লিখিত শিবরাঘব সংবাদ শিবগীতা নামে
প্রসিদ্ধ । এখানেও আঠারোটি অধ্যায় রয়েছে ।
এই আঠারোটি অধ্যায় যথাক্রমে - 
১। শিবভক্তি নিরূপণ , 
২। বৈরাগ্য উপদেশ , 
৩। বিরজাদীক্ষা নিরূপণ,
৪। শিব প্রাদুর্ভাব , 
৫। রামকে বর প্রদান ,
৬। বিভূতিযোগ , 
৭। বিশ্বরূপ দর্শন , 
৮। পিণ্ডোৎপত্তি কথন , 
৯। দেহ স্বরূপ নির্ণয় , 
১০। জীব স্বরূপ কথন , 
১১। জীব গতি নিরূপণ ,
১২। উপাসনা জ্ঞান ফল , 
১৩। মোক্ষ নিরূপণ ,
১৪। পঞ্চকোশোপপাদন ,
১৫। ভক্তিযোগ ,
১৬। গীতা অধিকারী নিরূপণ , 
১৭। ব্রহ্ম নিরূপণ যোগ এবং
১৮। জীবন্মুক্তি স্বরূপ নিরূপণ যোগ । 

যেভাবে অর্জুনের প্রশ্নের উত্তরে ভগবদ্গীতা সামনে
এসেছে , সেভাবেই শ্রীরামচন্দ্রের বিভিন্ন
প্রশ্নের উত্তরে প্রকাশিত হয়েছে এই শিবগীতা
। শিবগীতা আধ্যাত্ম বিদ্যার এক অসামান্য
গ্রন্থ যেখানে বেদান্তের সার বস্তু সমাহিত
হয়েছে । বেদান্ত যাকে ব্রহ্ম বলেছেন তাকে
এখানে শিব নামে অভিহিত করা হয়েছে । শিবই
এই সৃষ্টির নির্মাতা , পালন কর্ত্তা এবং সংহার
কর্ত্তা । সম্পূর্ণ সৃষ্টি পরমেশ্বর শিবের শক্তির
রূপ বলা হয়েছে , বেদান্ত তাকে মায়া শক্তি
নামে আখ্যায়িত করেছেন । এই মায়াশক্তিকে
অতিক্রম করে পরব্রহ্ম বিষয়ে জ্ঞাত হওয়াই
মুক্তির একমাত্র উপায় । এই জ্ঞান তথা মুক্তির
জন্যই পরমেশ্বর শিব ব্রহ্ম , শিব থেকে সৃষ্টির
রচনার বর্ণনা , শরীর রচনার বর্ণনা , শিব সাধনা ,
শিবপূজার বিধান , সংসারের অসারতা ,
তত্ত্বজ্ঞান , কর্মফল , বিরজা দীক্ষা , শিবের
বিরাট স্বরূপ , শিবের বিভূতি , জীবের গতি ,
মুক্তির স্বরূপ , ভক্তির বিধি , ধ্যান যোগ
ইত্যাদি অনেক আধ্যাত্মিক রহস্যের উদ্ঘাটন
করা হয়েছে এই শিবগীতায় । এই দৃষ্টিতে শ্রীশ্রী  শিবগীতার মহত্ত্ব সর্বাধিক । জ্ঞান প্রাপ্তির
জিজ্ঞাসুদের জন্য এই শিবগীতা গ্রন্থ অতি
মহত্বপূর্ণ ।

#------#
তরুণ ধর্মের আলো'র সাথে থাকার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

ভালো লাগলে শেয়ার করুন— 

Thursday, June 4, 2020

৬০★ ষষ্ঠ বর্ষে 'তরুণ ধর্মের আলো'

ওঁ তৎ সৎ
               ষষ্ঠ বর্ষে 'তরুণ ধর্মের আলো'

আজ, ৫ জুন, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ।
মানসিক প্রশান্তি আর অগ্রযাত্রায় পঞ্চম বর্ষ অতিক্রম করে ষষ্ঠ বর্ষে পদার্পণ করলো 'তরুণ ধর্মের  আলো'। 
তাই, আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তনের অঙ্গিকার নিয়ে একটি শান্তিময় সমাজ বিনির্মানে সবসময় নির্ভীক ভূমিকা পালন করব এ আমাদের প্রত্যাশা। 
সুন্দর, কল্যাণ ও শুভকর্ম পথে 'এর নিরন্তর অভিযাত্রা অবাধ, নিরপেক্ষ ও গতিশীল হোক।

'তরুণ ধর্মের আলো'র পঞ্চম বর্ষপূর্তি ও ষষ্ঠ বর্ষে পদার্পণ উপলক্ষ্যে 'এর উদ্যোক্তা, কলাকুশলী ও সুধী সদস্যবৃন্দসহ সংশ্লিষ্ঠ সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা।

 ভবিষ্যতে 'এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যে আমরা অবিচল থাকবো এই প্রার্থনায়--

#অনুপম_নন্দী
#তরুণ_ধর্মের_আলো

★পুনশ্চ : 
আজ
 শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের স্নান যাত্রা 
এবং
বিশ্ব পরিবেশ দিবস-এর শুভেচ্ছা!