অন্যরকম চিন্তা-চেতনা🕊
আর জে জয় সৃজন
প্রকৃত বিবেক-বুদ্ধি, শক্তি, শ্রুতি, স্মৃতি-ই সৃষ্টির মাধ্যম৷
বাস্তবতাই জীবন, মানবতাই পরম ধর্ম। সৃজনশীলতা মানেই নতুন কিছু সৃষ্টি করা।
আমার উপলব্ধি চিন্তা-ধারার কথাগুলো— মানে, কোন বস্তু ও মানুষ বা কোন জীব সম্পর্কে সঠিক ও ভালো করে না জেনে না, না বুঝে তর্ক করা, কথা বলা ও সন্দেহ করা উচিত নয়।
ভালো করে জানা ও বুঝার মাধ্যম হচ্ছে— উপলব্ধি, বিবেক এবং মন এই হলো আমাদের ত্রিনয়ন৷ এই ত্রিনয়ন সম্পর্কে সকলে বোঝার চেষ্টা করে না। এর কী ক্ষমতা তাও জানে না, জীবের জন্য এই ত্রিনয়ন খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
অনেকেই বলে থাকে, দুই চোখ থাকতেও সে অন্ধ৷ এর ব্যাখ্যা অনেক বড়, অনেক কথা৷ তাই যার ত্রিনয়নের আলোর জ্ঞান আছে সে কখনোই অন্ধ নয় দুইচক্ষু না থাকলেও৷ এই ত্রিনয়নের গুরুত্ব ও মূল্য অপরসীম। এর কারণ ত্রিনয়ন দিয়ে প্রকৃত সত্য উপলব্ধি করা ও ভাল মন্দ চেনা যায়, দেখা যায়, পাওয়া যায়, ভালো কিছু করা যায়। এই ত্রিনয়ন ছাড়া মানুষ সঠিক পথে চলতে পারে না৷
একটু ভাবুন, আমরা মানব জাতি, অনেকেই দু-নয়ন থাকতেও অন্ধ। বিবেক, মন, জ্ঞান থাকতেও প্রকৃত বিবেক মন নেই ও দিন দিন মনুষ্যত্ব, ন্যায়-নীতি, বিশ্বাস, ভালোবাসা, ভক্তি, সঠিক পথ, প্রকৃত জ্ঞান হারিয়ে যাচ্ছে অতি সকালে, তা হলে কিসের আমরা সৃষ্টির সেরা ? সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ নামের মানব জাতি?
আমাদের এই মানব দেহে বিশেষ অঙ্গ, আমাদের এই দুই চোখের ভূমিকা অনেক। তাই এই অঙ্গের দ্বারা অনেক ভালো ভালো, সৎ, সঠিক কিছু করা যাচ্ছে ও যায়৷ তা হলে কেন নেতিবাচক চিন্তা করি ও করতেছি আমরা মানব জাতি?
যেমন—চোখ থাকতেও অন্ধ। এর চেয়ে আর দুঃখ জনক কি হতে পারে একটি মানুষের জন্য? কারন যেমন দু-নয়ন থাকতেও অন্যায়, অপরাধ, দিন-রাত অসৎ ও অনৈতিক কাজ করা, অসৎ পথে চলা,
চুরি, ডকাতি, ছিন্তাই, অতি লোভ-লালসা, ধর্ষণ, রক্তপাত, পশু-পাখি, জীবকে অন্যায়ভাবে হত্যা৷ সত্যকে মিথ্যা বানিয়ে বলা, অবিশ্বাস করা, ঘুস খাওয়া, অন্যের টাকা-পয়সা, জায়গা-জমি, বাড়ি-গাড়ি আত্বসাৎ করা ইতাদি খারপ দিক চোখ থাকতেও আমরা করে থাকি! ছি!
তাই চোখ থাকতেও অন্ধ। চোখের মর্ম বুঝতেছিনা আমরা৷ এই চোখের সাহায্যে আমরা অসৎ কাজ করতেছি! ছি!
তাই সময় থাকতে ত্রিনয়নের দ্বারা ভালো কিছু করি, ভালো কিছু ভাবি এবং দুই নয়নের মাধ্যমে সৎ পথে চলি, সৎ কর্মকাণ্ড করি, সঠিক চিন্তা-ধারার ভালো কাজ, আলো, জ্ঞান, ধ্যান, বুদ্ধি, বিবেক জাগ্রত করি আমরা মানব জাতি। এবং তরুণ তথা মানব সমাজে মানবতা, ন্যায়-নীতি, নৈতিক শিক্ষাবোধ গড়ে তুলি। তবে তার আগে এই সব আপন বিবেকে ধারণ করি৷ নিজেকে আগে সৎ ও সঠিক করে ভালো ভাবে গড়ে তুলি বাস্তব জীবনে। এই সমাজে ভালোবাসার জগৎ সংসারে🌏।
কারণ, মানুষের, জীবের, সমাজের, দেশের, বর্তমান অবস্থা ও পরিস্থিতি খুব খারাপের পথে! তবে সামনের দিনগুলোতে আরো করুণ অবস্থা ধারণ করতে পারে। বর্তমান যে পরিস্থিতি এগুলোকে উপলব্ধি করে ও দেখে বলতেছি এই কথাগুলো।
তাই বিশেষ করে মা, বাবা, পরিবার ও তরুণ সমাজকে বলতে চাই একটি কথা, আপনারা এই কথাটি চিন্তা করবেন—কেন হচ্ছে এমনটা? কী জন্য হচ্ছে এই অনৈতি কর্মকাণ্ড? কাদের জন্য হচ্ছে এই সব? এসবের দ্বায় কারা? কাদের অবহেলায় এই সব হচ্ছে? আর আমাদের কী করা উচিত?
একটি সন্তানকে জন্ম দিলেই হবে? তাদের মানুষের মত মানুষ করতে হবে, সুন্দর করে গড়ে তুলতে হবে, সৎ পথ দেখাতে হবে তাদের নিয়ে ভাবতে হবে।
টাকা-পয়সা, জায়গা-জমির লোভ করে কী হবে? এসব কি সাথে যাবে, নাকি একটি প্রকৃত সৎ সন্তান রেখে যাওয়া উচিত চলে যাবার আগে এই জগৎ সংসারে? অবশ্যই তাই...
একটি প্রশ্ন, বাবা-মা হিসেবে আমাদের দায়িত্ব কতটুকু একটি সন্তানের প্রতি?
আমি নিজ থেকে যতটুকু বুঝি যে, সবার আগে মাতা পিতার দায়িত্ব, ভূমিকা ও কর্তব্যের গুরুত্ব অনেক বেশি, একটি সন্তানকে সুন্দর, সৎ ও আদর্শবান সন্তান গড়ে তোলার জন্য এই সমাজের মাঝে৷
তবে মা-ই সৎ ও সঠিক শিক্ষার প্রথম পথপ্রদর্শক একটি সন্তানের জন্য। মাতা শিক্ষাগুরু, পিতা দিক্ষাগুরু, পরমগুরুর কৃপায় এই জগৎ সংসার চেনা যায়৷ আর শিক্ষক জ্ঞান ও আলো দান করেন ছোট থেকে প্রকৃত বড় হওয়ার জন্য। অজানা কিছুকে সুন্দর করে বুঝিয়ে সঠিক পথে চলার মন্ত্র দান করেন।
এভাবে আমরা আমাদের জীবনকে সুন্দর করে সাজিয়ে নিতে পারি... আর আমাদের তারুণ্য প্রকাশ করে আলো জ্বালাতে পারি অন্ধকারেও!
জয় হোক মানবতার, জয় হোক তরুণের,
জয় হোক 'তরুণ ধর্মের আলো'র।
××××××××××××××××××××××××××××××××××
রচনা :
দিন : মাস : সাল :: ঘন্টা : মিনিট।
[১০ : ১০ : ২০২০ :: ১০ : ১০]

No comments:
Post a Comment