Thursday, November 26, 2020

একটি_ছেলের_একাদশী_ব্রত_পালন

একটি_ছেলের_একাদশী_ব্রত_পালন

ওঁ তৎ সৎ
আজ বলবো, এক ছেলের জীবনের প্রথম একাদশীর উপবাস থাকার কথা।
ছেলেটার এতগুলো বছর কেটে গেলো কোনোদিন এই উপবাস করে নি। কতজন যে তাকে বলেছে, দেখো, তুমি তো মনে হয় আধ্যাত্মিক জগতের মানুষ, কারণ, তোমার কথাবার্তার ধরণও আধ্যাত্মিকের মতই। তোমার অনেককিছুই ভালো লাগে কিন্তু একটা জিনিস ভালো লাগে না। এই যে একাদশীর উপবাস থাকো না। কোন ব্রত রাখো না। আবার কথাও বলো পাকা পাকা...!
ছেলেটা এতদিন এসব কথার পেছনে যে কত যুক্তি দিয়েছে। সেগুলো তারা শুনে আরো কোনো কথা বলার সুযোগ পায়নি।
ছেলেটাকে অনেকের মধ্যে বিশেষ করে যারা একাদশীর ব্রত থাকা নিয়ে কথা বলতেন, তাকে ব্রত পালন করার জন্য বিভিন্ন কথা বলতেন এমনকি এখনো বলেন তারা হলেন, শ্রী সুজিৎ কুমার  দত্ত, শ্রী দিপংকর হাওলাদার, শ্রী বলাই কুমার পাল, শ্রী বৈকুণ্ঠ সরকার, শ্রী দিপক বৈরাগী প্রমুখ।

কিন্তু ছেলেটা এবার করলো কী? মনে মনে স্থির করলো যে, একটা ব্রত অন্ততপক্ষে পালন করার চেষ্টা করি, দেখা যাক কী হয়? কেমন লাগে? পরবর্তী ব্রত থাকার কথা না হয় পরে দেখা যাবে। তাই সে গত কাল (২৬ নভেম্বর, ২০২০) যে একাদশীর ব্রত, সেটা পালন করার জন্য যথাযথ চেষ্টা করে। যদিও নিয়ম-কানুন তেমন কিছুই জানে না ছেলেটি, তবুও ঠাকুরের শ্রীচরণে দেহ মন অর্পণ করে শুরু করে ব্রত। অনেকে বলে থাকেন যে, যদি কেউ নির্জলা ব্রত থাকতে না পারে তাহলে সে কিছু ফল-জল সেবা তা করতে পারে। এতে দোষের কিছুই নেই, মূল কথা হচ্চে তার সংযম বা লক্ষ্য ঠিক আছে কি না!

তাই সে দুপুরে দুটো কলা, রাতে দুটো কলা ও অর্ধেকটি কমলা সেবা করে এবং ঠাকুরের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে... সাথে সকাল, সন্ধ্যায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মুখনিঃসৃত বাণী শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা অধ্যয়ন করে। পরদিন সকালে নিজে হাতে খিচুরি রান্না করে ঠাকুরকে নিবেদন করে নিজে প্রসাদ গ্রহণ করে।

এখন, সেই ছেলেটি এই একাদশীর ব্রত রাখার চেষ্টার মাধ্যমে যে বিষয়টি উপলব্ধি করতে পেরেছে তা হলো— এই একাদশী ব্রত শুধু একক দৃষ্টিকোণ থেকে নয় বরং এমন ব্রত প্রতিটি মানুষেরই করা কর্তব্য। কেননা, এতে শারীরিক যেমন উপকার আছে তেমনি আছে মানসিক উপকার। এতে মনের তথা শরীরের অনেক ব্যাধিও দূরীভূত হয়ে যায়। সেইসাথে পরমানন্দ তো আছেই...! আর যদি কেউ যথাযথ নিয়মে এই ব্রত পালন করতে পারে সেক্ষেত্র তো সে যথাযথই ফল লাভ করবে এতে কোনো সন্দেহ নেই বলে শ্রীভগবানের প্রতি ছেলেটির এই বিশ্বাস জন্মেছে।

তবে, কথাও আমাদের স্মরণ রাখতে হবে যে, শুধু না খেয়ে কিংবা অনাহারে থাকার নামই কিন্তু ব্রত পালন নয়, ব্রত পালনের মূল কথা নিজেকে যথাযথ সংযত রাখা। ঠাকুরের শ্রীচরণে সদা নিজেকে অর্পণ করে দেয়া, তাঁর স্মরণ নেয়া। লোভ, হিংসা, অহঙ্কার প্রভৃতি মনোভাব বর্জিত হয়ে তবেই ব্রত পালন করা কর্তব্য।

তাই, আসুন আমরা সবাই যথাযথ ভাবে শ্রীশ্রী একাদশী ব্রত পালন করি, সুস্থ সুন্দর জীবন গড়ি, পরমানন্দ লাভ করি।
হে ভগবান! তুমি সকলের মঙ্গল করো প্রভু!
                            || জয় মা ||


#কলমে : সুব্রত মণ্ডল সৃজন
#প্রকাশনায় : তরুণ ধর্মের আলো

No comments:

Post a Comment