🍀🍀অসমাপ্ত কাহিনী🍀🍀
দেবব্রত পাল
গল্প, উপনাস, প্রবন্ধ এগুলো পড়তে আমার বেশ ভালো লাগে। আমি প্রায়ই গল্পের বই পড়ি। কখনো গোপাল ভাড়, কখনো চাঁদের বুড়ি ম্যাজিক ম্যান, কখন বা Hunter the Ghost, After the Trove, Ghost the house ইত্যাদি।
একদিন আমার খুড় মশায় কোলকাতা থেকে আমাদের বাড়িতে এলেন। দশ-পনের দিন ছিলেন আমাদের বাড়িতে। উনি জানতেন যে আমি বই পড়তে ভালোবাসি। তো উনি কোলকাতা থেকে আসার সময় আমার জন্য রবি ঠাকুরের একটা গল্পের বই নিয়ে এলেন। তাতে আনেকগুলো গল্প ছিলো। ঐ গল্পগুলোর মধ্যে থেকে আমার একটা গল্প বেশ ভালো লেগেছিল গল্পটির নাম হলো 'গুপ্তধন'।
এই গল্পটি পড়ার পর আমার মাঝে অন্য রকম পরিবর্তন আসলো।
যাই হোক পরের বার যখন খুড় মশায় আবার এলেন তখন উনার সাথে ঘুড়তে গিয়েছিলাম ওনার মামার বাড়িতে 'শ্রীনগর'।
আমি, খুড় মশায় আর খুড়তুত ভাই সুব্রত। ওর সাথে ছিলো আমার খুব ভাব, নামেও যেমন কাজেও তেমন। সুব্রত আর দেবব্রত। তখন ছিলো আষাঢ় মাস। শ্রী শয়নৈকাদশীর দিন আমরা যাত্রা শুরু করলাম ট্রেন পথে। বেশ ভালো লাগছিলো। যাত্রা পথে সুব্রত আমায় বলছিলো যে দেবব্রত জানিস, শ্রীনগরে মানে আমার বাবার মামার বাড়ি থেকে দুই কিলোমিটার দূরে একটা জমিদার বাড়ি আছে।ওখানে কেউ যায় না। ওটা নাকি খাড়া বাড়ি নামে কথিত। কথা বলতে বলতে আমাদের ট্রেন শ্রীনগর স্টেশনে এসে থামলো।
খুড় মশায় একটা রিকশা ভাড়া করে। স্টেশন থেকে চার কিলোমিটার পথ খুড় মশায় এর মামার বাড়ি। রিকশা চড়ে যাচ্ছিলাম আমরা তিন জন। চার দিকে পাহাড় আর ঝোপঝাড়ে ঘেরা। কেমন যেনো নির্জন! জন-মানবহীন একটা গ্রাম। লোকজন তেমন নেই।গ্রামটির অবস্থা এমন যে দুই-এক কিলোমিটার পরে একটি কুঁড়েঘর দেখা যায়। যদিও গ্রামটি দেখতে অদ্ভুত তবুও বেশ ভালো লাগছিলো।
যাই হোক অবশেষে ঠাকুর দাদুর বাড়ি এসে উঠলাম।বিকাল হয়ে গেলো, একাদশীতে রাত্রে ওখানে হরি বাসর আয়োজন করা হয়। আমি আর দাদাভাই কিছুক্ষণ ছিলাম তার পরে ঘুমিয়ে পড়লাম।
সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠে স্নান করে পূজা শেষে পারনটা সেরে নিলাম। যতই সময় যাচ্ছে, জমিদার বাড়ি সম্পর্কে আমার কৌতূহল যেনো বেড়েই চলছে।
অবশেষে সময় হলো ওই ঘন মুহূর্তের। দুপুরবেলা খাওয়া শেষ করে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে আমি, সুব্রত, আর ভোলা নামে এক ছেলেকে নিয়ে হাঁটতে বের হলাম। হাঁটতে হাঁটতে আমরা জমিদার বাড়ির নিকটে এসে পৌঁছলাম। যদিও বর্ষা কাল কিন্তু তখন বৃষ্টি ছিলো না বরং রোদের ভীষণ তাপ ছিলো। জমিদার বাড়িটি দেখতে ছিলো অসাধারণ। কি সুন্দর কারুকার্য আর ঝোপঝাড়ে ঘেরা! যদিও জমিদার বাড়িটিকে খাড়া বাড়ি বলা হতো কিন্তু আমাদের তিন জনের চোখে কোনো ভয় ছিলো না। গাছ পালা আর লতাপাতায় ঘেরা থাকার করণে বেশ অন্ধকার ছিলো বাড়িটি। ঠিক বুঝে উঠতে পারছিলাম না সূর্যদেব অস্তমিত হলো কিনা(?) ভোলার হাতে একটা টর্সলাইট ছিলো ঐ টসলাইটের আলোতে আমরা তিন জন হাঁটতেছিলাম।
জমিদার বাড়ির প্রবেশদ্বারে উত্তর-পূর্ব কোণে একটা মন্দির দেখতে পেলাম। মন্দিরে বিশাল বড় একটি শালগ্রাম শিলার নারায়ণের মুর্তি দেখতে পেলাম।ভোলার কাছে জানতে পারলাম স্বয়ং জমিদার দ্বদিক নারায়ণ নাকি এই শালগ্রাম শিলার পূজা করতেন।
মন্দিরে চারটি স্তম্ভ ছিলো। তার মধ্যে একটি প্রায় নেই বললেই চলে। মন্দিরে পিছনে, জমিদার বাড়ির পূর্ব-দক্ষিণ কোণে একটা পুকুর ছিলো।
হঠাৎ মন্দিরের পিছন থেকে একটা বিড়ালের মিউ মিউ শব্দ শুনে আমরা তিনজন ভয় পেয়ে যাই! তিন জনের শরীর চমকে উঠলো। হঠাৎ করে আমার কানে যেনো নূপুরের শব্দ ভেসে আসতে লাগলো। শব্দটা আসছিলো ঠিক পুকুর ঘাট থেকে। কিন্তু শব্দটি আমি ছাড়া ওরা শুনতে পাচ্ছিলোনা।
যদিও পূর্ণিমার আলোতে পথ দেখা যাচ্ছিলো তবুও আমি ভোলার কাছে থেকে টর্স লাইটটা চেয়ে নিলাম।আর ধীরে ধীরে পুকুর ঘাটের দিকে এগিয়ে চললাম।হঠাৎ আমার মাথায় কিশের যেনো আঘাত পেলাম। আমার হাত থেকে টর্সলাইটি পড়ে গেলো। পড়ে যাওয়া লাইটের আলোতে ঘাটে পড়ে থাকা একটি নূপুর দেখতে পেলাম।
আমার মাথা ঘুরাচ্ছে, চোখ বুজে আসছে। যখন চোখ খুলি তখন দেখি আমি ঠাকুর দাদুর বাড়িতে শুয়ে আছি!
মাথা ভীষণ ব্যথা করছে আর গায়ে ভীষণ জ্বর! আস্তে আস্তে আমি সুস্থ হয়ে উঠলাম।
ওরা ভয়ে ঐ জমিদার বাড়ি যাওয়ার কথা কাউকে বললো না। জানি না কী বলে বুঝালো বাড়ির সবাইকে। আমি আর ঐ নূপুর এর কথা ওদেরকে বলিনি। ঐ নূপুরটির কাহিনী আমার কাছে এখনো অসমাপ্তই রয়ে গেলো...
No comments:
Post a Comment